July 4, 2020, 2:07 am

আমি সঠিক কথা বলেছি: সালমান এফ রহমান

Spread the love

সালমান এফ রহমান বলেছেন, উন্নয়ন হলে বৈষম্য বাড়বে।’ শ্রদ্ধেয় ইব্রাহিম খালেদ যেভাবে আমার পুরো বক্তব্যের সারাংশ একটিমাত্র বাক্যে প্রকাশ করেছেন, তা নিয়ে বিভ্রান্তির অবকাশ রয়ে যায়। আমি বলেছিলাম, ‘বলা হচ্ছে যে প্রবৃদ্ধি অসম। আমার কথা হলো, যেই দেশেই প্রবৃদ্ধি হবে, উন্নত দেশ হোক আর উন্নয়নশীল দেশ হোক, অসমতা থাকবেই। অসমতা বা বৈষম্য মূলত প্রবৃদ্ধির স্বাভাবিক ধর্ম। আপনি যদি চান, বৈষম্য ছাড়া প্রবৃদ্ধি হবে, এটা কিন্তু সম্ভব না। আপনাকে দেখতে হবে যে নিম্ন পর্যায়ে বৈষম্য ভালোর দিকে যাচ্ছে কি না। আর এ ক্ষেত্রে আপনারাই তো স্বীকার করেছেন যে দারিদ্র্যের হার কমেছে।’

ইব্রাহিম খালেদ এ বিষয়ে অবতারণা করতে গিয়ে সুইডেন নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছেন। পুরো লেখা পড়ে মনে হলো, তিনি বলতে চেয়েছেন যে বাংলাদেশ উন্নয়ন করছে—এই কথা বলতে হলে বাংলাদেশকে আগে সুইডেন বানিয়ে দেখাতে হবে। সন্দেহ নেই যে আমাদের কাছ থেকে জনাব খালেদের প্রত্যাশার পারদ একটু আকাশচুম্বী। তারপরও তাঁর কিছু কথা নিয়ে কৌতুক বোধ না করে পারা গেল না।

তিনি সুইডেন ও বাংলাদেশের আয়বৈষম্য পরিমাপ করতে জিনি সহগের কথা বলেছেন। বলেছেন এই সহগে সুইডেনের অবস্থান ০.৩-এর আশপাশে, বাংলাদেশের ০.৫-এর কাছাকাছি। প্রথমত, আয়বৈষম্য পরিমাপের কোনো সর্বজনস্বীকৃত মানদণ্ড নেই। জিনি সহগের বড় দুর্বলতা হলো, এটি কেবল সামগ্রিক চিত্র পরিমাপের মানদণ্ড; জনসংখ্যার কোনো বিশেষ শ্রেণির (ধনী হোক বা দরিদ্র) জীবনের উন্নয়ন বা অবনমনের চিত্র এখানে ফুটে ওঠে না। ফলে জিনি সহগে আমাদের অবস্থান যদি আমি মেনেও নিই, তাহলেও আমার বক্তব্য ভুল প্রমাণিত হয় না। আমি বলেছি, উত্তরবঙ্গে এখন আর মঙ্গা দেখা যায় না। দেশে দারিদ্র্য কমেছে। নিম্ন আয়ের মানুষ হয়তো ধনী বা মধ্যবিত্তদের মতো দ্রুতহারে জীবনমান উন্নত করতে পারেনি। কিন্তু তাদের অবস্থা যে অতীতের চেয়ে ভালো, তা বোঝা যায় বাংলাদেশের অভাবনীয় দারিদ্র্য হ্রাসের পরিসংখ্যান থেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category
Translate »