July 4, 2020, 3:10 am

রেলস্টেশনে রাত কাটাচ্ছেন আটকে পড়া রাজবাড়ীর শ্রমজীবীরা

Spread the love

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে দেশের অন্য জেলার মতো রাজবাড়ীতেও বাস ও রেল যোগাযোগ বন্ধ আচে। এতে আটকা পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ। তাঁরা বাড়ি ফিরে যেতে পারছেন না। রাজবাড়ী রেলস্টেশন এলাকায় রাত কাটাচ্ছেন তাঁরা।

রাজবাড়ী

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে দেশের অন্য জেলার মতো রাজবাড়ীতেও বাস ও রেল যোগাযোগ বন্ধ আচে। এতে আটকা পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ। তাঁরা বাড়ি ফিরে যেতে পারছেন না। রাজবাড়ী রেলস্টেশন এলাকায় রাত কাটাচ্ছেন তাঁরা।

কয়েকজন শ্রমজীবী বলেন, উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় শ্রমিকদের চাহিদা কম। সারা বছর কাজ থাকে না। বেকার হয়ে বসে থাকতে হয়। কিন্তু রাজবাড়ী-ফরিদপুর অঞ্চলে শ্রমিকদের ভালো চাহিদা রয়েছে। সহজেই কাজ পাওয়া যায়। মাইনেও ভালো। এ কারণে শ্রমিকেরা ছুটে আসেন এই অঞ্চলে। প্রতি রোববার ও বৃহস্পতিবার রেলস্টেশনে জমজমাট শ্রমিক বিক্রির হাট বসে। এ ছাড়া অন্যান্য দিনেও গৃহস্থ আসেন শ্রমিক নিতে। এ কারণে তেমন একটা বসে থাকতে হয় না। আবার এক বাড়ি গেলে সেখানে কাজ শেষ হলে আশেপাশেও কাজ পাওয়া যায়। কিন্তু করোনা–আতঙ্কে এখন কাজ বন্ধ। হাতে টাকাপয়সাও তেমন নেই। বিপদে পড়েছেন তাঁরা।

রংপুরের মিঠাপুকুর এলাকার শ্রমিক জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘কয়েক দিন আগে রাজবাড়ীতে কাজ করতে আসি। কাজ পেয়েছিলাম। কিন্তু করোনা নিয়ে মাইকিং হওয়ার পর আমাদের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর রেলস্টেশনে চলে আসি। কিন্তু ট্রেন বন্ধ। শুনেছি বাসও বন্ধ। আমাদের তো কোথাও থাকার জায়গা নেই। এ কারণে রেলস্টেশনে আছি। দিনের বেলায় পুলিশ টহল দেয়। ধাওয়া করে। অনেককে মারধরও করেছে। দিনে তাই বাধ্য হয়ে এখানে–সেখানে থাকি। রাতে রেলস্টেশনে ঘুমাই।’

দিনাজপুরের পার্বতীপুরের শ্রমিক শামসুল আলম (৫৫) বলেন, ‘যেখানে কাজ করি সেই বাড়িতেই রাতে থাকি। এখন কাজ বন্ধ। তাই আর ওই বাড়িতে থাকা যাচ্ছে না। ট্রেন বন্ধ, বাড়িও যেতে পারছি না। বাধ্য হয়ে আমাদের রেলস্টেশনে থাকতে হচ্ছে।’

নওগাঁর রানীনগরের খলিল মন্ডল বললেন, কাজ করতে রাজবাড়ী এসেছিলেন। কিন্তু এখন কাজ নেই। হাতে টাকা-পয়সাও নেই। পেটে ভাত নেই। বাড়ি ফিরে যাওয়ার আপাতত কোনো উপায়ও নেই। এ কারণে শেষ আশ্রয় রেলস্টেশন। কিন্তু এখানেও নানা ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে।

দিকে রেলস্টেশনে আশ্রয় নেওয়া শ্রমজীবীদের খাবার দিচ্ছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) রাজবাড়ী শাখা।সিপিবির নেতা আবদুস সাত্তার মন্ডল বলেন, ‘গতকাল শনিবার সকালে এক শ্রমজীবীর সঙ্গে আমার কথা হয়। তিনি নওগাঁর বাসিন্দা। কাজ করতে এসে আটকা পড়েছেন। তাঁর কাছে টাকাপয়সা নেই। অনাহারে আছেন। তাঁর মতো উত্তরবঙ্গের আরও ২০-২২ জন আছেন। এরপর পার্টির সঙ্গে কথা বলে খাওয়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই সংকট যত দিন থাকবে, আমরা তাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করব।’

জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম বলেন, রেলস্টেশন এলাকায় কিছু শ্রমজীবী মানুষ থাকার বিষয়টি তিনি জানেন। গতকাল বিকেলে সেখানে ইউএনওকে পাঠানো হয়। তাদের শুকনা খাবার দেওয়া হয়েছে। সরকারের নির্দেশনা আছে—’যে ব্যক্তি যেখানে আছেন, তিনি সেখানে থাকবেন।’ এ কারণে আপাতত তাদের ফেরত পাঠানোর কোনো সুযোগ নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category
Translate »